লন্ডন : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করা হলো

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করা হলো

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করা হলো


প্রকাশ: ২০/০৯/২০২৬ ০১:১১:১১ অপরাহ্ন

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার ও আরও একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানান কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), এক কিশোর (১৫) ও কামরুল হাসান। এ ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যায়। 

পরে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশে পরিকল্পনা করে তাকে ওই এলাকায় নিয়ে যায় সে।

পুলিশের দাবি, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ফাহাদ জিজ্ঞাসাবাদে তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তুহিনের দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে অপ্রতীমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। 

একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হলে তুহিন মোবাইল ফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার করা তিন জনকে অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন