লন্ডন : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৩ অপরাহ্ন

শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন

শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন

শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন


প্রকাশ: ২৯/০৪/২০২৬ ১০:২৭:০০ অপরাহ্ন

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা তথা শেষ পর্যায়ের ভোটগ্রহণ বুধবার (২৯ এপ্রিল) কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। 

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও বড়োসড়ো সহিংসতা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, যা এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এদিন বিকেল ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরপর আরও কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ চলায় চূড়ান্ত হার আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ।

এদিন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। মোট ৪১ হাজার ১টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। ভোটের শুরুতে কিছু জায়গায় ইভিএম বিকল হওয়ার অভিযোগ উঠলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে ও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরের নোয়াপাড়া বিধানসভায় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘর্ষ হয়। নদিয়ার শান্তিপুরে বিজেপির ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। 

বীজপুরে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা হয় ও সেখান থেকে দুজন ভুয়া ভোটারকে গ্রেফতার করা হয়। হাওড়ার বালিতে ইভিএম বিকল হওয়ার কারণে ভোটার ও বিজেপির কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

এবারের নির্বাচনে আলোচিত আসনটি হলো উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পানিহাটির বিধানসভা। এখানে কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষণ ও পরে হত্যার শিকার হওয়া চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পানিহাটি ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বুধবার (২৯ এপ্রিল) তাকে দেখে গো-ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়।

এদিকে, ভোট দিতে গিয়ে একজন ৮১ বছর বয়সী প্রবীণের অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের নির্বাচনে সহিংসতায় কারও প্রাণহানির খবর মেলেনি। 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন ও পরবর্তীসময়ে রাজনৈতিক মৃত্যুও হয়েছিল ও আহত হয়েছিলেন ১ হাজার ৬৯১ জনের বেশি। সেই তুলনায় ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে সহিংসতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত বলেই দাবি করা হচ্ছে।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার জনমত জরিপ বিজেপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এ ধরনের সমীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকেই।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী ৪ মে। তখনই স্পষ্ট হবে, পশ্চিমবঙ্গে কোন রাজনৈতিক দল পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন